BN/Prabhupada 0915 - সাধু আমার হৃদয়, এবং আমিও সাধু এর হৃদয়

From Vanipedia
Jump to: navigation, search
Go-previous.png Previous Page - Video 0897
Next Page - Video 0973 Go-next.png

সাধু আমার হৃদয়, এবং আমিও সাধু এর হৃদয়
- Prabhupāda 0915


730421 - Lecture SB 01.08.29 - Los Angeles

ভক্তঃ অনুবাদঃ "হে ভগবান, কেউ আপনার চিন্ময় লীলা বুঝতে পারেন না। যা মানবীয় দেখায় এবং তাইজন্য বিভ্রান্তিকর। আপনার পক্ষপাতের কোনো নির্দিষ্ট বস্তূ নেই, এবং আপনার ঈর্ষা করার কোনো বস্তূ নেই। মানুষ কেবল কল্পনা করেন যে আপনি আংশিক।"

প্রভুপাদঃ তাই ভগবদ-গীতায় ভগবান বলেছেন, পরিত্রাণায় সাধুনাম বিনাশায় চ দুষ্কৃতম (ভ.গী.৪.৮)। তাই দুটি উদ্দেশ্য। যখন ভগবান অবতার নেন, উনার দুটি উদ্দেশ্য। একটি উদ্দেশ্য হচ্ছে পরিত্রাণায় সাধুনাম, এবং বিনাশায়... এবং আরেকটি উদ্দেশ্য বিশ্বস্ত ভক্তদেরকে পরিত্রান করা হয়, সাধু। সাধু মানে ধার্মিক ব্যাক্তি।

সাধু... আমি অনেক বার ব্যাখ্যা করেছি সাধু মানে ভক্ত। সাধু মানে এই নয় পার্থিব সততা বা অসততা, নৈতিকতা বা অনৈতিকতা। জড় ক্রিয়াকলাপের সাথে এর কোন লেনদেন নেই। এটা কেবল আধ্যাত্মিক, সাধু। কিন্তু মাঝে মাঝে আমরা আহরন করি, "সাধু," একজন ব্যক্তির ভৌতিক আচ্ছা, নৈতিকতা। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সাধু মানে চিন্ময় স্তরে স্থিত। যারা আধ্যাত্মিক সেবায় নিযুক্ত। স গুনান সমতিতৈতান (ভ.গী. ১৪.২৬)। সাধু জড় গুণাবলীর মধ্যে চিন্ময়। তাই পরিত্রাণায় সাধুনাম (ভ.গী.৪.৮) পরিত্রাণায় মানে নিষ্পন্ন করা।

যদি একজন সাধু ইতিমধ্যে মুক্ত হন, তবে তিনি চিন্ময় স্তরে আছেন, তাহলে তাকে বাঁচানোর দরকার কোথায়? এটাই হল প্রশ্ন। অতএব এই শব্দ ব্যবহার করা হয়, বিড়ম্বনম। এটা বিস্ময়ের ব্যাপার। এটা অসঙ্গতিপূর্ণ। এটা পরস্পরবিরোধী বলে মনে হচ্ছে। যদি একজন সাধু ইতিমধ্যে মুক্ত হয় ... দিব্য স্থিতী মানে তিনি আর নিয়ন্ত্রনাধীনে নেই। প্রকৃতির তিনটি গুন আছে, সত্ত্ব, রজো এবং তমো। কারন এটা ভগবত গীতায় স্পষ্ট বলা হয়েছেঃ স গুনান সমতিতৈতান (ভ.গী. ১৪.২৬) তিনি জড় গুণাবলী অতিক্রম করে গেছেন। একটি সাধু, ভক্ত। তাহলে মুক্তির প্রশ্ন কোথায়? উদ্ধার ... তার উদ্ধারের প্রয়োজন নেই , একটি সাধু, কিন্তু তিনি খুব উদ্বিগ্ন পরম পুরুষকে সামনা সামনি দেখতে। এটা তার আন্তরিক ইচ্ছা, তাই কৃষ্ণ আসেন। মুক্ত করতে নয়, তিনি এমনিতেই মুক্ত। জড় বন্ধন থেকে তিনি এমনিতেই মুক্ত। কিন্তু তাকে সন্তুষ্ট করার জন্য, শ্রী কৃষ্ণ সবসময়ই আছেন ... যেমন একজন ভক্ত চায় সবকিছুতে ভগবানকে সন্তুষ্ট করতে, অনুরূপভাবে, ভক্তের চেয়েও অধিক, প্রভু ভক্তকে সন্তুষ্ট করতে চান। এই হচ্ছে প্রেমের আদান প্রদান। যেমন তোমার আমার সাধারন ব্যবহারে, যদি আপনি কাউকে ভালোবাসেন, আপনি তাকে সন্তুষ্ট করতে চান। অনুরূপভাবে, তিনিও বিনিময় করতে চান। তাই যদি সেই এই প্রেমের বিনিময় এই জড় জগতে হয়, তাহলে এটা কতটা উন্নত হবে আধ্যাত্মিক জগতে? তাই একটি শ্লোক আছে যে: "সাধু হচ্ছে আমার হৃদয়, এবং আমি সাধুর হৃদয়।" সাধু সবসময় কৃষ্ণের সম্পর্কে চিন্তা করে। এবং কৃষ্ণ সবসময় তাঁর ভক্ত, সাধু সম্পর্কে চিন্তা করে।