BN/Prabhupada 0024 - শ্রীকৃষ্ণ অত্যন্ত দয়ালু

Revision as of 07:06, 4 June 2021 by Vanibot (talk | contribs) (Vanibot #0005: NavigationArranger - update old navigation bars (prev/next) to reflect new neighboring items)
(diff) ← Older revision | Latest revision (diff) | Newer revision → (diff)


Lecture on SB 3.25.26 -- Bombay, November 26, 1974

যখন অর্জুন শ্রীকৃষ্ণকে সামনাসামনি দেখছিলেন, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তখন ভগবদ্গীতা শিক্ষা দিচ্ছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে দেখা এবং ভগবদগীতা অধ্যয়ন করা একই জিনিস। এর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। কেউ কেউ বলে যে, অর্জুন খুবই ভাগ্যবান ছিল... "সে শ্রীকৃষ্ণকে সামনা সামনি দেখতে পেয়েছিল এবং তাঁর থেকে নির্দেশ পেতে পেরেছিল।" এটা ঠিক নয়। শ্রীকৃষ্ণ। তাঁকে তৎক্ষণাৎ দেখা যেতে পারে এই শর্তে যে তাঁকে দেখার মতো চোখ তোমার রয়েছে। কাজেই এটা বলা হয়েছে যে, প্রেমাঞ্জনচ্ছুরিত... প্রেম এবং ভক্তি, একই জিনিস। প্রেমাঞ্জনচ্ছুরিত -ভক্তি-বিলোচনেন সন্ত সদৈব হৃদয়েষু বিলোকয়ন্তি (ব্রহ্ম সংহিতা ৫.৩৮) আমি এর সাথে সম্পর্কিত একটি গল্প বলব, দক্ষিণ ভারতে একজন ব্রাহ্মণ, সে রঙ্গনাথ মন্দিরে ভগবদ-গীতা পাঠ করছিল এবং সে ছিল অশিক্ষিত। সে না জানত সংস্কৃত বা কোন অক্ষর, অশিক্ষিত। কাজেই লোকজন, প্রতিবেশী, তারা জানত যে "এই লোকটি অশিক্ষিত এবং সে ভগবদগীতা পাঠ করছে।" সে ভগবদ্গীতা খুলেই, "আহ্, আহ্" এরকম করছিল। কেউ কেউ ঠাট্টা করছিল, "বেশ, ব্রাহ্মণ বাবু, আপনি কিভাবে ভগবদগীতা পাঠ করছেন?" সে বুঝতে পারছিল যে, এই লোকটি ঠাট্টা করছে কারণ আমিতো অশিক্ষিত'। এই ভাবে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুও সেইদিন ঘটনাক্রমে শ্রীরঙ্গন্নাথ মন্দিরে উপস্থিত ছিলেন, এবং তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে "ইনি একজন ভক্ত"। কাজেই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তার দিকে এগিয়ে গেলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, "হে প্রিয় ব্রাহ্মণ, তুমি কি পাঠ করছো?" সেই ব্রাহ্মণটি এটিও বুঝতে পেরেছিল যে, "এই লোকটি ঠাট্টা করছে না"। কাজেই সে বলল, "প্রভু, আমি ভগবদগীতা পাঠ করছি। আমি ভগবদগীতা পাঠ করার চেষ্টা করছি, কিন্তু আমি তো অশিক্ষিত। আমার গুরুমহারাজ বলেছেন যে "তোমাকে অবশ্যই প্রতিদিন আঠারো অধ্যায় পাঠ করতে হবে"। আমার কোন জ্ঞান নেই। আমি পড়তে পারি না। তারপরও যেহেতু গুরু মহারাজ বলেছেন তাই আমি তাঁর নির্দেশ পালন করার চেষ্টা করছি। এবং শুধু পৃষ্ঠা খুলে যাচ্ছি, ব্যাস্। আমি জানিনা গীতা কিভাবে পড়তে হয়। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বললেন, "আমি দেখছি তুমি মাঝে মাঝে কাঁদছও। "হ্যাঁ, আমি কাঁদছি"। যদি তুমি পড়তেই না পার, তাহলে কাঁদছ কিভাবে? "না, কারণ যখন আমি এই ভগবদগীতা গ্রন্থটি হাতে নিই, আমার সামনে একটি ছবি ভেসে ওঠে যে, শ্রীকৃষ্ণ এত দয়ালু যে তিনি অর্জুনের রথের চালক বা সারথি হয়েছেন। সে তাঁর ভক্ত। শ্রীকৃষ্ণ এতোই দয়ালু যে তিনি একজন সেবকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন কারণ অর্জুন নির্দেশ করছিল, 'আমার রথ এখানে রাখ, ওখানে রাখ,' এবং শ্রীকৃষ্ণ তাঁর সেবা করছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ খুবই দয়ালু। তাই যখনই আমি এই ছবি আমার হৃদয়ের গভীরে দেখতে পাই, তখনই আমি কাঁদি।" শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তৎক্ষণাৎ তাকে জড়িয়ে ধরে বললেন যে, "তুমি সত্যই ভগবদগীতা পাঠ করছ। কোন বিদ্যাশিক্ষা ছাড়াই তুমি ভগবদগীতা পাঠ করছ।" তিনি তাকে জড়িয়ে ধরলেন। সুতরাং এটিই... সে কিভাবে ছবিটি দেখছিল? কারণ সেই ব্রাহ্মণ ছিলেন একজন কৃষ্ণভক্ত, ওই শ্লোকগুলো তিনি পাঠ করতে পারছিলেন কি না, সেটা কোন ব্যাপার না। কিন্তু তিনি কৃষ্ণপ্রেমে মগ্ন ছিলেন এবং দেখছিলেন, শ্রীকৃষ্ণ সেখানে বসেছিলেন এবং তিনি অর্জুনের রথ চালাচ্ছিলেন। এটিই প্রয়োজন।