BN/Prabhupada 0716 - জ্ঞানের দ্বারা আমাদের বুঝতে হবে শ্রীকৃষ্ণ কে

Revision as of 10:12, 6 June 2021 by Soham (talk | contribs) (Created page with "<!-- BEGIN CATEGORY LIST --> Category:1080 Bengali Pages with Videos Category:Prabhupada 0716 - in all Languages Category:BN-Quotes - 1977 Category:BN-Quotes - L...")
(diff) ← Older revision | Latest revision (diff) | Newer revision → (diff)


Lecture on CC Madhya-lila 8.128 -- Bhuvanesvara, January 24, 1977

মূল বিষয়টি হচ্ছে সবাইকে শ্রীকৃষ্ণ উপলব্ধি করতে হবে। অন্য দিন একজন ব্যক্তি প্রশ্ন করেছিলেন, "কৃষ্ণ' শব্দের মানে কি?" 'কৃষ্ণ' মানে সর্বাকর্ষক। সর্বাকর্ষক না হলে কি ভাবে কেউ ভগবান হতে পারে? বৃন্দাবন জীবন মানে হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণ আসেন, তিনি নিজে অবতীর্ণ হন কৃষ্ণ কে বা ভগবান কে তা দেখাতে। সুতরাং এই ছবিটিতে বৃন্দাবন জীবন বা গ্রামীণ জীবন দেখানো হয়েছে। সেখানে গ্রামবাসী রয়েছে, চাষীরা রয়েছে, গাভী আর বাছুর রয়েছে - এই হল বৃন্দাবন। এটি নিউ ইয়র্ক, লন্ডনের মতো কোন বড় শহর নয়। এটি গ্রাম, আর সেখানকার কেন্দ্রবিন্দু হলেন শ্রীকৃষ্ণ। এটিই হচ্ছে বৃন্দাবন জীবন। সেখানকার গোপীরা হচ্ছে গ্রামের বালিকা, আর রাখাল গোপেরাও গ্রামের ছেলে। নন্দ মহারাজ, যিনি নিজেও একজন কৃষিজীবী, সেই গ্রামের প্রধান। একইভাবে বয়স্ক গোপ এবং গোপীরা, মা যশোদা তাঁর অন্যান্য বান্ধবীরা - তাঁরা সকলেই কৃষ্ণের দ্বারা আকর্ষিত। এই হচ্ছে বৃন্দাবন জীবন। তাঁরা এমন কি এও জানে না যে শ্রীকৃষ্ণ কে। তাঁরা শ্রীকৃষ্ণকে জানতে বেদ, পুরাণ বা বেদান্ত পড়ে নি। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের প্রতি তাদের স্বাভাবিক আকর্ষণ ছিল।

এই স্বাভাবিক আকর্ষণ... বর্তমানে আমাদের শ্রীকৃষ্ণের প্রতি স্বাভাবিক আকর্ষণ নেই; তাই আমাদের অবশ্যই জ্ঞানের মাধ্যমে জানতে হবে শ্রীকৃষ্ণ কে? সেইটি হচ্ছে কৃষ্ণতত্ত্ববেত্তা। তাই যদি শ্রীকৃষ্ণের সমস্ত আকর্ষণীয় গুণাবলী না-ই থাকবে, তাহলে কেন কেউ তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হবে? এই জড় জগতে আকর্ষণ সাধারণত... আমরা একজন ধনী লোক কিংবা শক্তিশালী লোকের প্রতি আকৃষ্ট হই, পুরুষ হোক বা নারী। ঠিক যেমন আমাদের প্রধানমন্ত্রী, তিনি একজন মহিলা, কিন্তু যেহেতু তিনি শক্তিশালী, আমরা আকৃষ্ট, আমরা তার সম্পর্কে আলোচনা করি। তাই আকর্ষণের বিষয়গুলিকে পরাশর মুনি 'ভগ' শব্দের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন। ভগ মানে ঐশ্বর্য। তাই এই সমস্ত ঐশ্বর্য... যখন কেউ খুব ধনী হয়, তখন সে ঐশ্বর্যশালী হয়। যখন কেউ অত্যন্ত শক্তিশালী হয়, সে আকর্ষণীয় হয়। যখন কেউ খুব প্রভাবশালী হয়, খুব সুন্দর হয়, অত্যন্ত জ্ঞানী হয়... এইভাবে আকর্ষণ হয়ে থাকে। সুতরাং যদি আমরা খুব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে শ্রীকৃষ্ণের দিব্য জীবন অধ্যয়ন করি, দেখা যাবে ইতিহাসে শ্রীকৃষ্ণের চেয়ে সম্পদশালী আর কেউ ছিল না। শ্রীকৃষ্ণের চেয়ে শক্তিশালীও কেউ ছিল না, তার চেয়ে সুন্দর কেউ ছিল না। শ্রীকৃষ্ণের চেয়ে অধিক জ্ঞানী, দার্শনিক আর কেউই নেই। যদি তুমি এই ব্যাপারে অধ্যয়ন কর তুমি তা বুঝতে পারবে। ছয়টি ঐশ্বর্য সম্পূর্ণভাবে শ্রীকৃষ্ণে বিদ্যমান। তাই তিনিই হলেন ভগবান। 'ভগ' মানে ঐশ্বর্য এবং 'বান' মানে যার তা রয়েছে। এই হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণ শব্দের অর্থ যে তিনি সর্বাকর্ষক কারণ তিনি সমস্ত ছয় গুণের অধিকারী। এইটি হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের সংজ্ঞা। সুতরাং আমাদের যাকে তাকে ভগবান বলে গ্রহণ করা উচিৎ নয়। আমাদের অবশ্যই পরীক্ষা করে দেখতে হবে যে সেই ব্যক্তি পূর্ণরূপে এই ছয়টি ঐশ্বর্যের অধিকারী কি না।