BN/Prabhupada 0020 - কৃষ্ণকে বোঝা এত সহজ নয়

From Vanipedia
Jump to: navigation, search
Go-previous.png Previous Page - Video 0019
Next Page - Video 0021 Go-next.png

কৃষ্ণকে বোঝা এত সহজ নয়-
Prabhupāda 0020


Arrival Lecture -- Miami, February 25, 1975

কৃষ্ণকে বোঝা সোজা ব্যাপার নয়। মানুষ্যাণং সহশ্রেষু কশ্চিদ যততি সিদ্ধয়ে যততামপি সিদ্ধানাং কশ্চিন্মাং বেত্তি তত্ত্বতঃ (ভা.গী.৭.৩) হাজার হাজার লোকের মধ্যে এক জন নিজের জীবন কে সফল বানাতে চায়। কেউ আগ্রহী নয়। তারা জানে না জীবনে সফলতার মানে কি। আধুনিক সভ্যতা, সবাই চিন্তা করছে, যদি আমার কাছে সুন্দর স্ত্রী, গাড়ি আর বাড়ী থাকে তাহলে আমি সফল। " সেটা সফলতা নয়। সেটা অনিত্য। আসল সফলতা হচ্ছে মায়ার পাশ থেকে বেরোনো। ভৌতিক জীবন মানে জন্ম,মৃত্যু, জরা, ব্যাধিকে বোঝায়। আমরা অনেক ধরনের জীবন ত্যাগ করে এসেছি। আর এই মানুষ্য জীবন হচ্ছে একটা ভালো সুযোগ এখান থেকে বেরিয়ে যাবার। এই চক্র থেকে বেরোনোর একটা বড় সুযোগ। এই আত্মা শাশ্বত এবং আনন্দময় কারন সে ভগবানের অংশ। সৎ-চিৎ-আনন্দ, শাশ্বত, আনন্দময়, জ্ঞানময়। দূর্ভাগ্যবশঃ এই শর্তাধীন জীবনে আমরা বার বার শরীর বদলাই। কিন্তু আমার আধ্যাত্মিক স্তরে উঠে যাই না ,যেখানে কোন জন্ম মৃত্যু নাই। এখানে কোনো বিজ্ঞান নাই। আরেক দিন এক ডাক্তার আমাকে দেখতে এসেছিলো। আর আত্মাকে জানার শিক্ষা কোথায় দেওয়া হয়? সুতরাং পুরো জগৎ অন্ধকারে আছে। তারা শুধু পঞ্চাশ, ষাঠ অথবা একশ বছর বাঁচতে চায়। কিন্তু তারা জানে না যে আমরা শাশ্বত, আনন্দময়, জ্ঞানময়। এবং এই শরীরের জন্যে জন্ম মৃত্যু জরা ব্যাধি ভোগ করতে হয়। এবং এটা নিরন্তর চলছে। সুতরাং চৈতন্য মহাপ্রভু পতিত আত্মাদের কৃপা প্রদান করার জন্যে এসেছিলেন। কৃষ্ণও আসেন কিন্তু উনি অত উদার নয়। কৃষ্ণ চুক্তি রাখেন যে "যদি তোমরা সমর্পণ কর তাহলে আমি তোমার ভার নেব। " এইজন্যে মহাপ্রভু কৃষ্ণের থেকে বেশি দয়ালু যদিও দুই জন এক। সুতরাং মহাপ্রভুর কৃপাতে আমরা কৃষ্ণ কে বুঝতে পারি। মহাপ্রভু এইখানে উপস্থিত আছেন। তুমি উনার ভজনা কর, এটা কঠিন নয়। যজ্ঞৈ সংকীর্তনৈ প্রাহৈ যজন্তি হি সুমেধস। কৃষ্ণবর্ন ত্বিষা কৃষ্ণ সাঙ্গপাঙ্গ-স্ত্রপার্ষদম যজ্ঞৈ সংকীর্তম (শ্রী. ভা.১১.৫.৩২) তুমি শুধু হরে-কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ কর এবং যা কিছু পার মহাপ্রভু কে অর্পণ কর। উনি অনেক দয়ালু, উনি অপরাধ গ্রহন করেন না। রাধা-কৃষ্ণ ভজনা একটু কঠিন। আমাদের ওনাকে শ্রদ্ধা ও সম্মান সহকার পুজো করতে হয়। কিন্তু চৈতন্য মহাপ্রভু স্বেচ্ছায় এই লোকে এসেছেন পতিতদের উদ্ধার করার জন্যে। একটু সেবা তে উনি সন্তুষ্ট হয়ে যান। উনি সন্তুষ্ট হয়ে যান। কিন্তু এটার অবহেলা কর না। উনি অনেক দয়ালু ও করুণাময় এটা জেনে ওনাকে ভুলে যাওয়া অনুচিত। উনি পরমেশ্বর ভগবান। এইজন্যে আমাদের ওনাকে সম্মান জানানো উচিত, যতোটা সম্ভব। কিন্তু সুবিধা হচ্ছে যে চৈতন্য মহাপ্রভু কোনো অপরাধ গ্রহণ করেন না। এবং ওনার পুজো করা ওনাকে সন্তুষ্ট করা অনেক সহজ। যজ্ঞৈ সংকীর্তনৈ প্রাহৈ যজন্তি হি সুমেধস। শুধু হরে-কৃষ্ণ মন্ত্র জপ কর, নৃত্য কর তাহলে মহাপ্রভু সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন। তিনি এই নৃত্য এবং গান প্রচার শুরু করেন এবং এটি ভগবান উপলব্ধির জন্য সবচেয়ে সহজ প্রক্রিয়া। যত দূর সম্ভব কর...যদি সম্ভব হয়, পারলে ২৪ ঘন্টা কর। তা যদি না হয় তাহলে ৪ ঘন্টা কর, ৬ ঘন্টা কর। চৈতন্য মহাপ্রভুর সামনে হরে-কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ কর এবং তুমি জীবনে সফল হবে। এটা একটা ব্যাপার।