BN/Prabhupada 0100 - আমরা সর্বদা কৃষ্ণের সাথে সম্পর্কিত



Lecture on SB 6.1.8 -- New York, July 22, 1971

আমরা শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে নিত্য সম্পর্কিত। বর্তমান মুহূর্তে এটিকে কেবল ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অতএব আমরা মনে করি যে, শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু এটি আসলে তা নয়। কারণ আমরা শ্রীকৃষ্ণের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এই সম্পর্ক নিত্য। শুধু আমাদের এটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। এটিই কৃষ্ণভাবনামৃত। কৃষ্ণভাবনামৃত মানে... আমরা এখন অন্য চেতনায় আছি। আমি ভাবছি যে আমি ভারতীয়। অন্য কেউ ভাবছে "আমি আমেরিকান।" কেউ ভাবছে, "আমি এই, আমি সেই।" কিন্তু আমাদের ভাবা উচিত "আমি শ্রীকৃষ্ণের"। এই হচ্ছে কৃষ্ণভাবনামৃত। "আমি শ্রীকৃষ্ণের"। আর কৃষ্ণভাবনামৃতের সম্পর্কের মধ্যে, যেহেতু শ্রীকৃষ্ণ প্রত্যেকের জন্য, তাই আমিও সবার জন্য হব। শুধু বোঝার চেষ্টা কর। ভারতে একটা পদ্ধতি আছে একটা মেয়ে একটা ছেলেকে বিয়ে করে, তোমাদের এখানেও তা আছে, সর্বত্র একই পদ্ধতি। ছেলেটির ভাইপো মেয়েটিকে "কাকিমা" বলে ডাকে। এখন, সে কি করে কাকিমা হলো? কারণ, তার নিজের স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের জন্য। বিয়ে করার আগে, সে কাকিমা ছিল না, কিন্তু যখনই তার স্বামীর সাথে সম্পর্ক হলো, ছেলেটির ভ্রাতুষ্পুত্র মেয়েটিরও ভ্রাতুষ্পুত্র হয়ে গেল। শুধু উদাহরণটি বোঝার চেষ্টা কর। সেইরকম আমরা যদি শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে আমাদের বাস্তবিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করি, যেহেতু শ্রীকৃষ্ণ সকলের, তাই আমিও সবার হয়ে যাব। এটিই প্রকৃত বিশ্বপ্রেম। কৃত্রিম, তথাকথিত বিশ্বপ্রেম ততক্ষন সম্ভব নয়, যতক্ষন না তুমি কেন্দ্র বিন্দুর সাথে তোমার সম্পর্ক স্থাপন করছ। যেমন তোমরা আমেরিকান। কেন? কারণ তোমরা সবাই এই দেশে জন্মগ্রহণ করেছ। অতএব অন্য আমেরিকান তোমাদের দেশের একজন সদস্য, কিন্তু তুমি যদি অন্য কিছু হও, তাহলে অন্য আমেরিকানদের সঙ্গে তোমার কোন সম্পর্ক থাকবে না। তাই শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে হবে। তখন বিশ্বভ্রাতৃত্ব, ন্যায়, শান্তি, সমৃদ্ধির প্রশ্ন আসবে। অন্যথায়, সম্ভব নয়। কারণ মুখ্য সম্পর্ক অনুপস্থিত। অন্যথায় ন্যায় এবং শান্তি কিভাবে সম্ভব হবে? কখনও নয়।

অতএব ভগবদ্গী‌তাতে শান্তির সূত্র দেওয়া হয়েছে। শান্তির সূত্রটি হচ্ছে এই যে, আমাদের বুঝতে হবে যে শ্রীকৃষ্ণই হচ্ছেন একমাত্র ভোক্তা। যেমন আমাদের মন্দিরে, শ্রীকৃষ্ণই হচ্ছেন মুখ্য বিন্দু। আমরা যদি রান্না করি, তবে তা শ্রীকৃষ্ণের জন্য, আমাদের জন্য নয়। যদ্যপি আমরা প্রসাদ গ্রহণ করি, কিন্তু যখন আমরা ভোজন তৈরী করি, আমরা ভাবি না যে আমরা নিজেদের জন্য ভোজন তৈরী করছি। আমরা শ্রীকৃষ্ণের জন্য ভোজন তৈরী করছি। যখন কিছু তহবিল সংগ্রহ করার জন্য বাইরে যাওয়া হয়, এই রকম নয় যে, যেসব ব্যক্তিরা কীর্ত্তন পার্টিতে আছে, তাদের কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ আছে। না। তারা প্রণামী সংগ্রহ করছে অথবা গ্রন্থ বিতরণ করছে, শ্রীকৃষ্ণের জন্য, লোকেদের কৃষ্ণভাবনামৃত প্রদান করার জন্য। এবং যে ধন সংগ্রহ করা হয়, সেটা শ্রীকৃষ্ণের জন্য ব্যয় হচ্ছে। অতএব আমরা এই পদ্ধতিতে জীবন যাপন করা শিখি, সবকিছুই শ্রীকৃষ্ণের জন্য প্রয়োগ করা, এটাই কৃষ্ণভাবনামৃত। একই জিনিস, আমরা যা করছি, তা আমাদের করে যেতে হবে। শুধু আমাদের চেতনাকে পরিবর্তন করতে হবে, "আমি শ্রীকৃষ্ণের জন্য করছি, আমার ব্যক্তিগত কারণে নয়।" এই ভাবে, যদি আমরা কৃষ্ণভাবনামৃতকে জাগরিত করি, তাহলে আমরা আমাদের মূল চেতনায় ফিরে আসব। তাহলে আমরা সুখী হতে পারবো।

কৃষ্ণভাবনামৃত জাগরিত করা ছাড়া আমরা বিভিন্ন অনুপাতে মূর্খ। যে ব্যাক্তি কৃষ্ণভাবনামৃত জাগরিত ছাড়া আছে, তাকে মূর্খ মানা উচিত, কারণ তিনি অনিত্য তত্ত্বকে আধার করে জীবন যাপন করছেন। এটি শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু জীবাত্মা হিসেবে আমরা নিত্য। তাই অনিত্য কার্যকলাপ আমাদের জন্য নয়। আমাদের কর্তব্য নিত্য। কারণ আমরা নিত্য। আর এই নিত্যকর্ম হচ্ছে কিভাবে শ্রীকৃষ্ণের সেবা করা যায়। যেমন এই আঙ্গুলটি আমার শরীরের অংশ। এই আঙ্গুলের কর্তব্য হল এই শরীরের সেবা করা, এর অতিরিক্ত আর কোন কাজ নেই এর। এবং এটাই এই আঙ্গুলের সুস্থ অবস্থা। যদি এটি পুরো শরীরকে সেবা করতে না পারে, তবে এটির অসুস্থ অবস্থা। অনুরূপভাবে, শ্রীকৃষ্ণ নিত্য; আমরা নিত্য। নিত্যো নিত্যানাং চেতনশ্চেতনানাম (কঠোপনিষদ ২.২.১৩) এগুলো বৈদিক নির্দেশাবলী। শ্রীকৃষ্ণ সর্বোচ্চ নিত্য, এবং আমরাও নিত্য। আমরা সর্বোচ্চ নই, আমরা অধীনস্ত। নিত্যো নিত্যানাং চেতনশ্চেতনানাম। তিনি সর্বোচ্চ চেতন জীব, আর আমরা অধস্তন জীব। একো বহুনাম্‌ যো বিদধাতি কামান্‌। তিনিই একমাত্র সর্বোচ্চ জীব, যিনি অন্য সব জীবের প্রয়োজনীয় বস্তু সরবরাহ করেন, একো বহুনাম্‌, অসংখ্য জীব, তুমি গণনা করতে পারবে না। বহূনাম্‌। এটাই আমাদের সম্পর্ক। সুতরাং, শ্রীকৃষ্ণের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়ায়, আমরা তাঁর অধীন এবং তাঁর সেবা করাই আমাদের কর্তব্য। তিনি আমাদের আবশ্যকীয় বস্তু সরবরাহ করছেন। তিনি সর্বোচ্চ পিতা। এটাই স্বাভাবিক জীবন এবং মুক্ত জীবন। কৃষ্ণভাবনামৃত জাগরিত করা ছাড়া যেকোন জীবনই পাপপূর্ণ।