BN/Prabhupada 0291 - আমি অধীনস্ত হতে চাই না, নত হতে চাই না- এটিই রোগ

From Vanipedia
Jump to: navigation, search
Go-previous.png Previous Page - Video 0290
Next Page - Video 0292 Go-next.png

আমি অধীনস্ত হতে চাই না, নত হতে চাই না- এটিই রোগ
- Prabhupāda 0291


Lecture -- Seattle, September 30, 1968

প্রভুপাদঃ হ্যাঁ?

তরুণ যুবকঃ আপনি অধীনতা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে পারেন?

তমাল কৃষ্ণঃ অধীনতা সম্পর্কে আবার ব্যাখ্যা করুন।

প্রভুপাদঃ অধীনতা, এটা সহজ, আপনি অধীনে আছেন। আপনি অধীনতা বুঝতে পারছেন না? এটা কি খুব কঠিন? তুমি কি কারো অধীনস্থ না? তরুন যুবকঃ ঠিক আছে, হ্যাঁ, আমি বলতে পারি আমি এটা করতে পারি।

প্রভুপাদঃ হ্যাঁ। আপনার অবশ্যই, প্রত্যেকে। সবাই অধস্তন, অধীনে আছেন।

তরুন যুবকঃ আধ্যাত্মিক দিক থেকে, আমি অধস্তন মনে করি না ...

প্রভুপাদঃ প্রথমত বুঝুন যে, আধ্যাত্মিক জীবন কি, তারপর .. আধ্যাত্মিক অর্থে আপনি অধীন, কারণ আপনার প্রকৃতি হচ্ছে অধীনতা। আধ্যাত্মিক, আধ্যাত্মিক এবং জড়তে আপনার কি আসে যায়?

তরুন যুবকঃ আমার শরীর একটি বিশেষ স্থানে এবং সময় এবং এই সব (অস্পষ্ট) যদি আমার কোন চাকরি থাকে তবে আমি আমার মনিবের অধীনে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, আমার সম্পূর্ণ অস্তিত্ব, আমার প্রকৃত অস্তিত্ব, আমার ভেতরের অস্তিত্ব নয় ... আমি মনে করি না যে আমি আমার মালিকের অধীন। আমি মনে করি যে, আমরা আরও কম বা বেশী সমান হব। একটি সাম্প্রতিক অর্থে ...

প্রভুপাদঃ হ্যাঁ। এই ভাবনা খুব ভালো, যে আপনি আপনার বসের সাথে অসন্তোষ অনুভব করছেন অধীনস্ত হয়ে। এটা কি না?

তরুণ যুবকঃ না, এটি সঠিক নয়।

প্রভুপাদঃ তাহলে? তরুন যুবকঃ আমি বিশেষ করে না ...

প্রভুপাদঃ অন্য কেউ।

তরুণ যুবকঃ আমি মনে করি যে... এই বিশেষ ঘটনা সম্পর্কে কথা বলার, এটা সত্য নয় যে আমি এই মানুষ থেকে ঈর্ষান্বিত বোধ করি কারণ তিনি আমার মালিক। কিন্তু আমি মনে করি আমরা আরো কম বা বেশী সব সমান। আমি বলতে চাচ্ছি, তোমরা জান, এটা এক ধরনের দর্শন যেটা আমাদের আছে। আমি মনে করি না যে আমি কারো সামনে নত হব এবং আমি মনে করি না যে আমার সামনে কেউ নত হবে। প্রভুপাদঃ কেন? কেন? কেন তুমি নত হবে না? কেন? তরুন যুবকঃ কারন আমি মনে করি না যে আমার কোন ঋণ আছে তার কাছে অথবা, আমার কাছে তার কোন ঋণ আছে।

প্রভুপাদঃ তাই এই রোগ। আমাদের নত হত্তয়াতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং আমরা মনে করি যে "আমি নত হওয়া পছন্দ করি না।" এটাই রোগ।

তরুন যুবকঃ তিনি আমাকে প্রণাম করতে বাধ্য করেন নি।

প্রভুপাদঃ হ্যাঁ।

তরুন যুবকঃ তিনি আমাকে কিছু করতে বাধ্য করেন না। আমি সেখানে আছি এবং সে সেখানে আছে।

প্রভুপাদঃ না। শুধু বুঝতে চেষ্টা করুন। এটা খুব সুন্দর প্রশ্ন। আপনি বলছেন, "আমি নত হতে চাই না।" এটা কি না? তরুন যুবকঃ এটি মূলত সত্য, হ্যাঁ।

প্রভুপাদঃ হ্যাঁ। কেন?

তরুন যুবকঃ কারন আমি মনে করি না যে আমি তুচ্ছ ...

প্রভুপাদঃ এটাই রোগ। আপনি আপনার রোগ নিজেই নির্ণিত করেছেন। এই বস্তুবাদের রোগ। সবাই মনে করে যে, "আমি মনিব হতে চাই। আমি নিজেকে নত হতে চাই না।" প্রত্যেকেই এইরকম চিন্তা করছে, শুধুমাত্র আপনি নন। শুধু চেষ্টা করুন, এটিকে শেষ করতে দিন। এই হচ্ছে রোগ, জড় অসুস্থতা। প্রথমে বুঝতে চেষ্টা করুন। এটা আপনার অসুস্থতা বা আমার অসুস্থতা নয় প্রত্যেকেরই রোগ এটা, "কেন আমি নত হব? কেন আমি অধীনস্ত হব? " কিন্তু প্রকৃতি আমাকে অধস্তন হতে বাধ্য করেছে। কে এখন মরতে চায়? কেন মানুষ মারা যাচ্ছে? আপনি এটির উত্তর দিতে পারেন? তরুন যুবকঃ কেন মানুষ মারা যাচ্ছে?

প্রভুপাদঃ হ্যাঁ। কেউ মরতে চায় না।

তরুন যুবকঃ আমি মনে করি এটি জৈবিক ...

প্রভুপাদঃ শুধু বুঝতে চেষ্টা করুন। এখানে কে আছে ... এই জৈবিক শক্তি মানে। আপনি জীববিদ্যার অধস্তন। তাহলে কেন আপনি বলছেন যে আপনি স্বাধীন? তরুন যুবকঃ ঠিক আছে, আমি অনুভব করি যে আমি ...

প্রভুপাদঃ আপনি ভুল অনুভব করছেন। এটা আমার পয়েন্ট, এটাই রোগ।

তরুন যুবকঃ আমি একাকী বোধ করছি?

প্রভুপাদঃ হ্যাঁ, ভুলভাবে।

তরুন যুবকঃ ভুলভাবে ?

প্রভুপাদঃ হ্যাঁ। আপনি অধীনস্ত। আপনাকে নত হতে হবে। যখন মৃত্যু আসে, তখন আপনি বলতে পারেন না, "ওহ, আমি আপনার অনুসরণ করব না।" তাই আপনি অধস্তন।

তরুণ যুবকঃ আমি ভগবানের অধীন, হ্যাঁ।

প্রভুপাদঃ না, না, না... ভগবানকে ভুলে যান এখন আমরা সাধারণ জ্ঞা্নের কথা বলছি।

তরুন যুবকঃ কৃষ্ণ ... আমি না ...

প্রভুপাদঃ না, কৃষ্ণ সম্পর্কে কথা বলো না এটা অনেক দূরে। আপনি শুধু বুঝতে চেষ্টা করেন যে আপনি মরতে চান না, কেন আপনাকে মরতে বাধ্য করা হচ্ছে? তরুন যুবকঃ কেন আমি মরতে বাধ্য? প্রভুপাদঃ: হ্যাঁ। কারণ আপনি অধস্তন।

যুবকঃ ওহ, হ্যাঁ।

প্রভুপাদঃ হ্যাঁ। তাহলে আপনি আপনার অবস্থা বুঝতে পেরেছেন, আপনি অধস্তন। আপনি ঘোষণা করতে পারেন না যে "আমি স্বাধীন। আমি অধস্তন নই।" যদি আপনি চান "আমি অধস্তন হতে চাই না, নত হতে চাই না," এটি আপনার রোগ। তরুন যুবকঃ আপনি কি করতে চান ... কি ...

প্রভুপাদঃ না, প্রথমে আপনার অসুস্থতা বুঝতে চেষ্টা করুন। তারপর আমরা আপনার ঔষধ ঠিক করব। তরুন যুবকঃ ঠিক আছে, আমি ভুল বোধ করছি, কিন্তু কার সাথে বা... আসলে, আমি কার কাছে নত হব, আমি বলছি ...

প্রভুপাদঃ আপনি সবার সামনে নত হচ্ছেন। আপনি মৃত্যুর আগে নত হচ্ছেন। আপনি রোগের কাছে নত হচ্ছেন, আপনি বুড়ো বয়সের আগে নত হচ্ছেন। আপনি অনেক কিছুর আগে নত হচ্ছেন। আপনি বাধ্য হচ্ছেন। এবং এখনও আপনি ভাবছেন যে "আমি নত হতে পারব না। আমি পছন্দ করি না।" যেহেতু আপনি বলছেন, "আমি পছন্দ করি না" তাই আপনাকে জোর করা হচ্ছে। তোমাকে নত হতে হবে। কেন আপনি আপনার পরিস্থিতি ভুলে গেছেন? এটি আমাদের রোগ। সুতরাং পরবর্তী প্রক্রিয়ায় এই যে "আমাকে নত হতে বাধ্য করা হচ্ছে।" এখন আমাদের খুঁজে বের করতে হবে, "কীভাবে আমি সুখী হতে পারি, এমনকি ঝুঁকিও নিই?" এই হচ্ছে কৃষ্ণ। আপনার নত হওয়া বন্ধ হবে না, কারণ আপনি সেই ব্যক্তির জন্য তৈরি হয়েছেন। কিন্তু যদি আপনি কৃষ্ণ বা তার প্রতিনিধির সামনে নত থাকেন তবে আপনি খুশি হবেন, এটি পরীক্ষা করুন। আপনাকে নত হতে হবে যদি আপনি কৃষ্ণের সামনে বা তার প্রতিনিধিদের সামনে নত না হন। তাহলে আপনাকে অন্য কারো সামনে নত হতে হবে, মায়া। এটি আপনার পরিস্থিতি। আপনি যে কোন মুহুর্তে মুক্ত হতে পারবেন না। কিন্তু আপনি অনুভব করবেন ... যেমন একটি শিশু চব্বিশ ঘন্টার জন্য তার পিতা-মাতা সামনে নত হয়। সে খুশি। সে খুশি। মা বলছেন, "আমার প্রিয় সন্তান, দয়া করে এখানে এসো বসো।" "হ্যাঁ।" সে খুশি। এটাই প্রকৃতি। শুধু আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে কার সামনে নত হতে হবে, ব্যাস। এই যে কৃষ্ণ। আপনি নত হওয়া বন্ধ করতে পারবেন না, কিন্তু কোথায় নত হতে হবে সেটা আপনার দেখা প্রয়োজন। ব্যাস এটুকুই। আপনি যদি কৃত্রিমভাবে চিন্তা করেন যে, "আমি কারো সামনে নত হই না। আমি স্বাধীন" তাহলে আপনি কষ্ট পাবেন। শুধু আপনাকে নত হবার জন্য সঠিক স্থান চয়ন করতে হবে। ব্যাস, ঠিক আছে। জপ করুন।