BN/Prabhupada 0342 - আমরা সব স্বতন্ত্র ব্যাক্তি, আর কৃষ্ণও স্বতন্ত্র ব্যাক্তি

From Vanipedia
Jump to: navigation, search
Go-previous.png Previous Page - Video 0341
Next Page - Video 0343 Go-next.png

আমরা সব স্বতন্ত্র ব্যাক্তি, আর কৃষ্ণও স্বতন্ত্র ব্যাক্তি
- Prabhupada 0342


Lecture on CC Adi-lila 7.7 -- Mayapur, March 9, 1974

আমাদের প্রত্যেকেই একটি প্রাণী, আমরা সবাই স্বতন্ত্র ব্যক্তি, এবং কৃষ্ণও একটি ব্যক্তিগত ব্যক্তি। এই জ্ঞান। নিত্য নিত্যানাম চেতনাস চেতনানাম একো হো বহুনাম বিদধতি কামান (ক.উ. ২.২.১৩)। কৃষ্ণ বা ভগবান, তিনি নিত্য, শ্বাশত। আমরাও নিত্য, শ্বাশত। ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে (ভ.গী.২.২০)। আমরা মরে যাই না। এটাই প্রাথমিক জ্ঞান আধ্যাত্মিক উপলব্ধির। "আমি এই শরীর নই, আমি চিন্ময় আত্মা, অহং ব্রহ্মাস্মি, কিন্তু আমি স্বতন্ত্র। নিত্য নিত্যানাম। কৃষ্ণ হচ্ছে স্বতন্ত্র ব্যাক্তিত্ব, আমিও স্বতন্ত্র ব্যাক্তত্ব। যখন কৃষ্ণ বলেন সে সর্ব-ধর্মান পরিত্যজ মাম একং শরনং ব্রজ (ভ.গী ১৮.৬৬)। এর মানে এই নয় যে যে আমি কৃষ্ণের সাথে এক হয়ে গেছি, অথবা মিশে গেছি কৃষ্ণের অস্তিত্বের সাথে। আমি আমার ব্যক্তিত্বকে রাখি, কৃষ্ণের ব্যক্তিত্ব আছে, কিন্তু আমি তার আদেশ পালন করতে সম্মত হই। তাইজন্য কৃষ্ণ ভগবদ্গীতায় অর্জুনকে বলেছেন যে,"আমি তোমাকে সবকিছু বলেছি। এখন তোমার ইচ্ছে? ব্যক্তিগত ভাবে। এটা নয় যে কৃষ্ণ অর্জুনকে জোর করছেন। যথাচ্ছসি তথা কুরুঃ (ভ.গী.১৮.৬৩) "এখন যা তোমার হচ্ছা, করতে পারো।" এটা স্বতন্ত্রতা।

সুতরাং এই চূড়ান্ত জ্ঞান, যে, এই মায়াবাদী দর্শন, এক হয়ে যাওয়া, অস্তিত্বে বিলীন হওয়া, অস্তিত্বের মধ্যে মিলিত হওয়ার অর্থ হচ্ছে আমরা কৃষ্ণের আদেশের সাথে একত্রিত হয়েছি। বর্তমানে আমাদের ব্যক্তিত্ব মায়া, কারণ আমরা অনেক কিছু পরিকল্পনা করছি। তাই আপনার ব্যক্তিত্ব এবং আমার ব্যক্তিত্ব দ্বন্দ্ব মধ্যে আছে। কিন্তু যখন কোন দ্বন্দ্ব নেই - আমরা একমত, "কেন্দ্রীয় বিন্দু কৃষ্ণ" - এটি একতা, এটা নয় যে আমরা আমাদের ব্যক্তিত্ব হারাব। তাই সব বৈদিক সাহিত্য যেমন শ্রীকৃষ্ণ দ্বারা বলা হয়েছে এবং কথিত হয়েছে, আমরা সব স্বতন্ত্র। সবাই স্বতন্ত্র। স্বংয় ভগবান একেলা ইশ্বর। পার্থক্য হল যে তিনি সর্বোচ্চ শাসক, ঈশ্বর। ঈশ্বর মানে শাসক। প্রকৃতপক্ষে তিনি শাসক, এবং আমরাও শাসক, কিন্তু আমরা অধস্তন শাসক। এ কারণে তিনি একেলা ঈশ্বর, একটি শাসক। ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণ, ব্রহ্মসংহিতায়। একেলা ঈশ্বর। ঈশ্বর অনেক হতে পারে না। এটা ঈশ্বর নয়। মায়াবাদ একটি দর্শন যে সবাই ভগবান, এটি একটি খুব সঠিক উপসংহার নয়। এটি ধূর্ততা। কৃষ্ণ বলেছেন, মুঢ়া। ন মাং প্রপদ্যন্তে মুঢ়া (ভ.গী.৭.১৫) যিনি সর্বশক্তিমান প্রভু, সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে আত্মসমর্পণ করেন না, আপনাকে ভালভাবে জানা উচিতন যে "একটি মূঢ়, ধূর্ত আছে।" যেহেতু এটা এমন নয় যে, আমরা সবাই ঈশ্বর হতে পারি। এটি সম্ভব নয়। তাহলে ঈশ্বরের কোন অর্থ নেই। ঈশ্বর মানে শাসক। ধরুন আমাদের একটি গোষ্ঠী আছে, এই আমাদের আন্তর্জাতিক সংঘ। যদি সবাই শাসক বা শিক্ষক হয়ে যায়, তবে কীভাবে এটি পরিচালনা করা যায়? না, সেখানে একজন অধ্যক্ষ থাকতে হবে। এই আমাদের বাস্তব জীবনের নীতি। আমরা আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের অনুসরণ করি। আমরা বলতে পারি না যে "আমি এই দলের অন্তর্গত" যতক্ষণ না আমি একজন নেতা অনুসরণ করি। এটা স্বাভাবিক।

তাই এই বৈদিক বিবৃতি, নিত্য নিত্যানাম চেতনস চেতনানাম (ক.উ.২.২.১৩)। একজন নেতা হতে হবে, একই মানের নেতা, দৈনিক হওয়া উচিত। আমি নিত্য, কৃষ্ণ নিত্য। কৃষ্ণ জীব, আমিও জীব। নিত্য নিত্যানাম চেতনস চেতনানাম। তাহলে কৃষ্ণ এবং আমার মধ্যে কি পার্থক্য? পার্থক্য হচ্ছে এই দুইটি নিত্য বা দুইটি চেতনা আছে। একটি এক সংখ্যা হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে, এবং অন্যটি বহুবচন সংখ্যা হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। নিত্য নিত্যানাম। এই নিত্যানাম হচ্ছে বহুবচন এবং নিত্য হচ্ছে এক বচন। তাই ভগবান হচ্ছে নিত্য, একবচন, এবং আমাদের উপর শাসন করা হচ্ছে। আমরা বহুবচন। এই হচ্ছে পার্থক্য। এবং কিভাবে তিনি বহুবচন সংখ্যায় শাসন করছেন? কারন একো যো বহুনাম বিদধতি কামান। তিনি সমস্ত বহুবচন সংখ্যার জীবনের সমস্ত প্রয়োজনীয়তা সরবরাহ করছেন, তাই তিনি ঈশ্বর, তিনি কৃষ্ণ, তিনি ভগবান। যে সমস্ত জীবনের প্রয়োজনগুলি প্রদান করে, তিনি ঈশ্বর, তিনি কৃষ্ণ, তিনি ভগবান। অতএব, আমরা খুব ভাল বুঝতে পারি যে আমাদের ভগবান কৃষ্ণ দ্বারা পালিত হচ্ছি, এবং কেন আমাদের তার দ্বারা শাসিত হতে উচিত না? এটি একটি সত্য।