BN/Prabhupada 0437 - শঙ্খকে খুব পবিত্র এবং চিন্ময় জ্ঞান করা হয়



Lecture on BG 2.8-12 -- Los Angeles, November 27, 1968

যদি কেউ উপনিষদগুলো থেকে উদ্ধৃতি দিতে পারে, তাহলে তার যুক্তি খুবই মজবুত হয়। শব্দ প্রমাণ। প্রমাণ মানে নজির। প্রমাণ...যদি তুমি তোমার মামলা জিততে চাও... ঠিক যেমন তোমাকে অনেক মজবুত প্রমাণ আদালতে দিতে হবে, ঠিক তেমনই, বৈদিক সংস্কৃতি অনুসারে, সাক্ষ্য হলো প্রমাণ। প্রমাণ মানে নজির। শব্দ প্রমাণ। বৈদিক সংস্কৃতিতে বিদ্বান পণ্ডিতেরা তিন ধরণের প্রমাণ গ্রহণ করেছেন। একটি প্রমাণ হলো প্রত্যক্ষ। প্রত্যক্ষ মানে সরাসরি উপলব্ধি। ঠিক যেমন আমি তোমাদের দেখছি, তোমরা আমাকে দেখছ। আমি উপস্থিত আছি, তোমরাও উপস্থিত আছ। এটি হলো সরাসরি উপলব্ধি। এবং আরেক ধরনের প্রমাণ আছে যাকে বলা হয় অনুমান। মনে করো এই কক্ষে, আমি মাত্র আসলাম, আমি জানি না এখানে কোন মানুষ আছে কি নেই। কিন্তু এখানে কিছু শব্দ আছে, যা শুনে আমি কল্পনা করতে পারি, "ওহ, এখানে কেউ আছে।" একে বলা হয় অনুমান। যুক্তিতে এটিকে অনুমান বলা হয়। এটিও প্রমাণ। যদি আমি আমার নির্ভুল পরামর্শের মাধ্যমে প্রমাণ দিতে পারি, তবে তাও গ্রহণযোগ্য। সুতরাং সরাসরি প্রমাণ, অনুমান বা নির্ভুল পরামর্শের মাধ্যমে প্রমাণ। কিন্তু মজবুত প্রমাণ হলো শব্দ প্রমাণ। শব্দ, শব্দ ব্রাহ্মণ। মানে বেদ। যদি কেউ বেদের উদ্ধৃতি থেকে প্রমাণ দিতে পারে, তবে তা গ্রহণ করতে হবে। বৈদিক প্রমাণকে কেউ অস্বীকার করতে পারে না। এটাই নিয়ম। এটা কিভাবে? শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু খুবই সুন্দর একটি উদাহরণ দিয়েছেন। যেটি বেদে আছে। ঠিক যেমন ভগবানের মন্দিরে আমরা শঙ্খ রাখি। শঙ্খকে খুবই পবিত্র বিবেচনা করা হয়, আধ্যাত্মিক, অন্যথায় কিভাবে আমরা তা বিগ্রহের সামনে রাখতাম এবং শঙ্খ ফু দিতাম? তুমি শঙ্খের মাধ্যমে জল নিবেদন করছ। তুমি কিভাবে তা করছ? কিন্তু এই শঙ্খ আসলে কি? এটি আসলে একটি প্রানীর হাড়। এটি প্রানীর হাড় ছাড়া আর কিছুই নয়। কিন্তু বৈদিক নির্দেশ হলো তুমি যদি কোনও প্রাণীর হাড় স্পর্শ কর, সাথে সাথে তোমাকে স্নান করতে হবে। কারণ তুমি অপবিত্র হয়ে যাও। এখন কেউ বলতে পারে, "ওহ, এটি সম্পূর্ণ বিপরীত। এক জায়গায় বলা হয়েছে যে, যদি তুমি প্রাণীর হাড় স্পর্শ কর, তোমাকে তৎক্ষণাৎ স্নান করে পবিত্র হতে হবে। এবং এখানে, প্রাণীর হাড় রাখা হচ্ছে ভগবানের ঘরে। সুতরাং একটি অপরটির বিপরীত, তাই নয় কি? যদি প্রাণীর হাড় অপবিত্র হয়, তাহলে তুমি ভগবানের ঘরে এটি কি করে রাখতে পার? এবং যদি একটি প্রাণীর হাড় পবিত্র হয়, তাহলে এই অপবিত্র হওয়া এবং স্নান করার অর্থ কি? তুমি বৈদিক নির্দেশে একই রকম বৈপরীত্য খুঁজে পাবে। কিন্তু যেহেতু বেদে এটি বলা হয়েছে যে প্রাণীর হাড় অপবিত্র, তাই তোমাকে এটি গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু এই প্রাণীর হাড়, শঙ্খ হলো পবিত্র। ঠিক যেমন কখনও কখনও আমাদের ছাত্ররা হতবাক হয়ে যায় যখন আমরা বলি যে পেঁয়াজ খাওয়া যাবেনা, কিন্তু পেঁয়াজ হলো সবজি। সুতরাং শব্দ প্রমাণ মানে, বৈদিক প্রমাণগুলো এমনভাবে গ্রহণ করতে হবে যাতে কোন সংশয় না থাকে। এর নিশ্চয়ই কোন অর্থ আছে; এখানে কোন আপাতবিরোধ নেই। এর কোন একটি মানে আছে। ঠিক যেমন অনেক বার আমি তোমাদের বলেছি যে গোময়। বৈদিক নির্দেশনা অনুসারে, গোময় হলো পবিত্র। ভারতে এটি আসলে এন্টিসেপটিক হিসাবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষত গ্রামগুলিতে, প্রচুর পরিমাণে গোময় রয়েছে এবং তারা , গৃহকে জীবাণুমুক্ত করতে তারা সম্পূর্ণ গৃহে গোময় ছড়িয়ে দেয়। এবং প্রকৃতপক্ষে তোমার ঘরে গোময় ছড়িয়ে দেওয়ার পর, যখন এটি শুকিয়ে যাবে, তুমি সতেজতা পাবে, সবকিছু জীবাণুমুক্ত হবে। এটি ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা। এবং ডাঃ ঘোষ, একজন বিখ্যাত রসায়নবিদ, সে গোময় পরীক্ষা করেছিলেন, যে কেন শাস্ত্র অনুযায়ী গোময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ? তিনি দেখতে পান যে গোময়ে সমস্ত অ্যান্টিসেপটিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে।