BN/Prabhupada 0853 - এমন নয় যে আমরা শুধু এই গ্রহেই এসেছি। আমরা অনেক গ্রহ-ব্রহ্মাণ্ড ভ্রমণ করেছি

Revision as of 07:05, 13 August 2021 by Vanibot (talk | contribs) (Vanibot #0005: NavigationArranger - update old navigation bars (prev/next) to reflect new neighboring items)
(diff) ← Older revision | Latest revision (diff) | Newer revision → (diff)


750306 - Lecture SB 02.02.06 - New York

এমন নয় যে আমরা শুধু এই গ্রহেই এসেছি। আমরা অনেক গ্রহ-ব্রহ্মাণ্ড ভ্রমণ করেছি আসলে এটাই হচ্ছে সত্য। আমরা সমস্ত ব্রহ্মাণ্ড জুড়ে ভ্রমণ করছি এমন না যে আমরা কেবল এই একটা গ্রহেই এসেছি। আমরা অনেক লোকে ভ্রমণ করেছি নয়তো, ভগবান কিভাবে বললেন, ভ্রাময়ন্‌। ভ্রমণ করছি। সর্বভূতানি। সকলেই - হয় উন্নত গ্রহলোকে নয় নিম্নের গ্রহলোকে আর সে কিভাবে ভ্রমণ করছে? যন্ত্রারূঢ়ানি এই যন্ত্র। তাঁকে এই দেহ যন্ত্র দেয়া হয়েছে আমি যদি চন্দ্রলোক যেতে চাই বা অন্য কোন উন্নত লোকে, হ্যাঁ। তুমি যাবে কিন্তু এই যন্ত্রে নয়। এই তথাকথিত ক্ষুদ্র স্পুটনিক । না তোমাকে কৃষ্ণের থেকে যন্ত্র বা গাড়ি নিতে হবে তুমি চাইলে উনি তোমাকে দেবেন। যদি তুমি সত্যিই চন্দ্রলোকে যেতে চাও তাহলে তুমি কৃষ্ণকে বল যে, "আমাকে একটি যন্ত্র দাও, আমি যাতে চন্দ্রলোকে যেতে পারি"। তাহলে তুমি যেতে পারবে। নাহলে তুমি শুধু শুধু টাকা খরচ করবে আর এখানে ওখানে কোথাও গিয়ে ধুলিবালি নিয়ে আসবে। আর বলবে... "ওহ্‌ আমি বড় বিজয়ী," ব্যাস্‌। কিন্তু তুমি যদি সত্যিই সেখানে যেতে দৃঢ় হও, তাহলে এই জন্মে তোমাকে প্রস্তুত হতে হবে সেই ভগবানের কাছে প্রার্থনা কর যে এই চন্দ্র, সূর্য এবং অন্যান্য গ্রহ সৃষ্টি করেছেন এবং তখন তিনি তোমাকে ওখানে যাবার যোগ্য বানিয়ে দেবেন তুমি সূর্যলোকে যেতে পারবে না। ওখানে প্রচণ্ড অত্যন্ত তাপমাত্রা তেমনই চন্দ্রলোকে অত্যন্ত ঠাণ্ডা। তাহলে তুমি কিভাবে এই দেহ নিয়ে ঐসব গ্রহে যাবে? এই দেহ মানে এই যন্ত্র।

তোমাকে তাহলে আরেকটি দেহ পেতে হবে সেইটি হচ্ছে পন্থা। সেই কথা ভগবদগীতায় প্রতিপন্ন করা হয়েছে

যান্তি দেবব্রতা দেবান্‌
পিতৃন যান্তি পিতৃব্রতাঃ
ভূতেজ্যা যান্তি ভূতানি
মদ্‌যাজিনোহপি মাম্‌
(গীতা ৯/২৫)

সবকিছুই পরিষ্কারভাবে বলা আছে যে তুমি যদি অন্য লোকের যেতে চাও অথবা উন্নত লোকে, তাঁরা তোমার সামনেই আছে তুমি তাঁদের দেখতে পার , যেমন সূর্য লোক দেখা যায় কিন্তু তুমি এতোই অযোগ্য যে তুমি ওখানে যেতে পারবে না কিন্তু তা আছে। এটা কল্পিত শাস্ত্রে সেখানকার তাপমাত্রার বর্ণনা আছে । যচ্চক্ষুরেষ সবিতা সকল গ্রহাণাম্‌ (ব্রহ্মসংহিতা ৫/৫২) সবিতা মানে সূর্য। তিনি সমস্ত লোকসমূহের চোখ। কারণ সূর্যালোক ছাড়া তুমি দেখতে পারবে না তুমি তোমার চোখ নিয়ে অনেক গর্ব কর কিন্তু যেই মুহূর্তে সূর্য নেই, তুমি অন্ধ তাই যচ্চক্ষুরেষ সবিতা সকল গ্রহাণাম্‌ সমস্ত গ্রহলোকেও, সূর্যালোক ছাড়া তুমি দেখতে পাবে না আর সূর্য গ্রহ তোমার চোখের সামনেই আছে রোজ সকালে তুমি সূর্যের আলো পাচ্ছ। তাহলে তুমি ওখানে যাচ্ছ না কেন? হু্‌? যাও। তোমাদের তো অনেক সুন্দর ৭৪৭ বিমান আছে। (হাসি) তুমি তা পারবে না। তোমাকে তাহলে প্রার্থনা করতে হবে ঈশ্বর অর্থাৎ কৃষ্ণ তোমার হৃদয়ে আছেন। যদি তুমি ঐকান্তিকভাবে প্রার্থনা কর তিন অত্যন্ত দয়ালু তাই তিনি তোমাদের ভিন্ন ভিন্ন ধরণের যান দিচ্ছেন ভ্রাময়ন সর্বভূতানি যন্ত্ররূঢ়ানি মায়য়া (গীতা ১৮/৬১) ভ্রাময়ন মানে সেই জীবকে সারা ব্রহ্মাণ্ড , সমস্ত প্রজাতিতে ভ্রমণ করানো সর্বভূতানি। সমস্ত প্রজাতিতে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, বিভিন্ন প্রজাতির পশু বা বিভিন্ন ধরণের মানুষ আছে একে বলা হয় বিচিত্র। ভগবানের সৃষ্টি বৈচিত্র্যময়

তাই তুমি যদি এই ব্রহ্মাণ্ডের কোথাও যেতে চাও অথবা এই জড় জগতের বাইরে পরস্তস্মাদ্‌ তু ভাবোহন্যব্যক্তব্যক্তাৎ সনাতনঃ (গীতা ৮/২০) কৃষ্ণ এই তথ্য দিচ্ছেন যে আরেকটি প্রকৃতি আছে, যাকে বলা হয় জড়া প্রকৃতি যেমনটা আমাদের অভিজ্ঞতা আছে যে, যদিও আমরা কোথাও যেতে পারি নি কিন্তু আমরা ভূগোলবিদ্যা পড়ার পর আমরা দেখেছি অনন্ত কোটি গ্রহ, লোক সেভাবে আরেকটি প্রকৃতি আছে। ঠিক একইভাবে একই রকম - একই রকম না। এর চেয়েও তিনগুণ বিশাল এটি ভগবানের কেবল এক অংশের সৃষ্টি। একাংশেন স্থিতো জগত

অথ বা বহুনৈতেন
কিম্‌ জ্ঞাতেন তবার্জুন
বিষ্ট্যভহম্‌ ইদম্‌ কৃৎস্নম্‌
একাংশেন স্থিতো জগত
(গীতা ১০/৪২)