BN/Prabhupada 0012 - জ্ঞানের উৎস হচ্ছে শ্রবণ

From Vanipedia
Jump to: navigation, search
Go-previous.png Previous Page - Video 0011
Next Page - Video 0013 Go-next.png

জ্ঞানের উৎস হচ্ছে শ্রবণ
- Prabhupāda 0012


Lecture on BG 16.7 -- Hawaii, February 3, 1975

আমরা সবাই অপূর্ন। আমরা নিজেদের চক্ষুর উপর খুব গর্ব করি : " আপনি আমাকে দেখাতে পারেন ?" তোমাদের চোখের কী যোগ্যতা আছে, যে তুমি দেখতে পাবে? তিনি এটা ভাবেন না যে " আমার কোন যোগ্যতা নেই ,তবুও আমি দেখতে চাই ।" এই চক্ষু অনেক শর্তের উপর নির্ভর করে আছে। তুমি বিদ্যুত থাকলে দেখতে পারো। আর বিদ্যুত না থাকলে দেখতে অক্ষম। তাহলে এই চক্ষুর কী মূল্য আছে ? এই দেওয়ালের ওপারে কি হচ্ছে, তুমি দেখতে পার না। সুতরাং নিজের ইন্দ্রিয়কে জ্ঞানের উৎস মানা অনুচিত। শ্রবনের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করা উচিত। তাকে শ্রুতি বলে। বেদ কে শ্রুতি বলা হয়, শ্রুতি-প্রমান। যেমন একটি শিশু নিজের পিতাকে জানতে চায়। প্রমান কী ? প্রমান হচ্ছে শ্রুতির দ্বারা, যেটা মা বলে দেয়। মা বলেন " এটা তোমার পিতা। " সুতরাং সে শোনে, সে দেখতে চায় না, সেই মানুষটি তার পিতা কী ভাবে হল। কারন পুত্রের জন্মের আগে থেকে তার পিতা উপস্থিত ছিল। সুতরাং দেখে প্রমান করা যাবে না যে কে আপনার পিতা। আপনাকে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শুনতে হবে। মা হচ্ছে তার কর্তৃপক্ষ। সুতরাং শ্রুতি প্রমান: প্রমান হচ্ছে শ্রবন দ্বারা, দেখার দ্বারা নয়। আমাদের চক্ষু অপূর্ন, অনেক বাধা আছে। একভাবে প্রত্যক্ষ প্রমান দ্বারা সত্যকে জানা অসম্ভব। প্রত্যক্ষ দর্শন একটা মনগড়া। ডাঃ ব্যাঙ ব্যাঙ্ ভাবছে আটলান্টিক সমুদ্রটা কী। তিনি একটা তিন ফিট কুয়োর মধ্যে আছে, কিছু বন্ধু তাকে বলেছিল, তার বন্ধু বলেন, " আমি বিশাল জল দেখেছি। " " বিশাল জল কী ?" আটলান্টিক সমুদ্র। " "কত বড় ?" অনেক বড়। " সুতরাং ব্যাঙ ভাবছে, চার ফিট বড় হবে। এই কুয়োটা তিন ফিট, ওটা চার ফিট হবে, আচ্ছা পাঁচ ফিট। আচ্ছা দশ ফিট হবে। " সুতরাং এমন কল্পনা দ্বারা কি করে ব্যাঙ বুঝবে আটলান্টিক অথবা প্রশান্ত মহাসাগর কি। কল্পনা দ্বারা কী আপনি আটলান্টিক অথবা প্রশান্ত মহাসাগর কে মাপতে পারবেন ? কল্পনা দ্বারা সম্ভব নয়। কল্পনা দ্বারা মানুষেরা অনেক বছর ভাবছেন এই ব্রহ্মান্ড নিয়ে,এখানে কত তারা আছে, কত লম্বা, কত চওড়া, কোথায় এই... কেউ এই জড়জগৎ সন্মন্ধে কিছু জানে না, আর আধ্যাত্মিক জগতের কথা আর কি বলব? সেই টি অনেক দূর। পরস্তস্মাত্তু ভাবোহন্যহব্যক্তোহব্যক্তাৎ সনাতনঃ(ভা.গী.৮.২০) আপনি ভাগবতগীতাতে পাবেন। একটা অন্য জগৎ আছে। এই জগৎ যেটা আপনি দেখছেন, এই আকাশ, একটা গোল গুম্বুজ, এর উপর পাঁচটা উপাদান আছে। এটা একটা আবরণ। নারকেলের মতো। একটা শক্ত আবরণ আছে এবং তার মধ্যে জল আছে। ঐভাবে এই আবরণের মধ্যে এবং আবরণের বাহিরে পাঁচটা পর্দা আছে, একটা থেকে আরকটা হাজার গুণ বড়। জল,বায়ু, অগ্নি ...এই পর্দা গুলো কে পেরিয়ে যেতে হবে। তবে আপনি আধ্যাত্মিক জগতে পৌছাবেন। কোটি কোটি ব্রহ্মান্ড আছে। যস্যপ্রভা প্রভাবতো জগদ্মন্ডো কোটি (ব্র.সং.৫.৪০) জগদ্মন্ডো মানে ব্রহ্মান্ড। কোটি, মানে হাজার হাজার ব্রহ্মান্ড এক সাথে থোক করা, এটি জড় জগৎ। এই পার্থিব জগতের উপরে আধ্যাত্মিক জগৎ আছে। ওটাও আকাশ, এটাকে পরব্যোম বলা হয় । তাই আপনার ইন্দ্রিয় অনুভূতি দ্বারা আপনি চাঁদ গ্রহ বা সূর্য গ্রহের মধ্যে কি আছে অনুমান করতে পারেন না, এই গ্রহে, এই ব্রহ্মান্ডে। আধ্যাত্মিক জগৎকে কল্পনা দিয়ে বোঝা যাবে না। এটা মূর্খতা। সুতারং শাস্ত্র বলে, আচিন্ত্য খলু যে ভাবা নতস্ত্ররর্কেন যুজয়েত। যা অস্পষ্ট,অচিন্ত্য কল্পনাতীত, এটা কল্পনা এবং তর্ক দ্বারা বোঝা যাবে না। এটা মূর্খতা। এটা সম্ভব নয়। সেইজন্য আমাদেরকে গুরুর কাছে যেতে হবে। তৎ বিজ্ঞানার্থম স গুরুম এভাবীগচ্ছেৎ , সমিত পানি শ্রোস্ত্রিয়াম ব্রহ্ম নিষ্টাম (মু.উ.১.২.১২) এটাই পদ্ধতি।