BN/Prabhupada 0314 - শরীরের জন্য বেশী ধ্যান দিতে হবে না, কিন্তু আত্মার জন্য পুরো ধ্যান দিতে হবে

From Vanipedia
Jump to: navigation, search
Go-previous.png Previous Page - Video 0313
Next Page - Video 0315 Go-next.png

শরীরের জন্য বেশী ধ্যান দিতে হবে না, কিন্তু আত্মার জন্য পুরো ধ্যান দিতে হবে
- Prabhupāda 0314


Lecture on SB 6.1.10 -- Los Angeles, June 23, 1975

এই যুগকে, কলি যুগ, ঝগড়া, মারামারি ও যুদ্ধ এবং বিভ্রান্তি - এটিকে কলিযুগ বলা হয় - এই যুগে এটাই একমাত্র সাধনঃ হরি কীর্তনাৎ। সংকীর্তন আন্দোলনই হরি-কীর্তন। হরি কীর্তন... কীর্তন মানে ভগবানের স্তুতি করে কীর্তন করা, হরি কীর্তন। এবং শ্রীমদ্ভাগবতমে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

কালের দোষে-নিধে রাজন অস্থি একো মহান গুন কীর্তনাদেব কৃষ্ণস্য মুক্ত সঙ্গ পরম ব্রজেৎ (শ্রী.ভা. ১২.৩.৫১)

তাই এটি অনুমোদন করা হয়েছে এবং একইভাবে শ্রীমদ্ভাগবতমে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর একটি বিবৃতি আছে, ত্বিষাকৃষ্ণম...

কৃষ্ণ-বর্নম ত্বিষা কৃষ্ণম সাঙ্গপাঙ্গস্ত্রপাষর্দম যজ্ঞৈ সংকীর্তন-পায়ৈ যজন্তি হি সুমেধাসা (শ্রী.ভা. ১১.৫.৩২)

অতএব আমাদের প্রথম দায়িত্ব চৈতন্য মহাপ্রভুকে উপাসনা করা। আমরা বিগ্রহ রাখি। প্রথমত আমরা তাঁর পার্ষদদের সাথে চৈতন্য মহাপ্রভুকে প্রনাম জানাচ্ছি, এবং তারপর, গুরু গৌরাঙ্গ, তারপর রাধা কৃষ্ণ বা জগন্নাথকে প্রানাম জানাই। তাই কারন এই প্রক্রিয়াটি কলি যুগের, যজ্ঞৈ সংকীর্তন-প্রায়ৈ যজন্তি হি সুমেধস, যদি আপনি সংকীর্তন করেন, শুধু এই প্রক্রিয়ায়, চৈতন্য মহাপ্রভুর সামনে যতবার সম্ভব, তাহলে আপনার সাফল্য নিশ্চিত। তোমার আর কিছু করার দরকার নেই। এটি অনুমোদন করা হয়্যেছেঃ যজ্ঞৈ সংকীর্তন প্রায়ৈ যজন্তি হি সুমেধস। অতএব, যারা বুদ্ধিমান, তারা স্ব-উপলব্ধির এই সহজ উপায় গ্রহণ করবে। আপনি মন্ত্র যত বেশি কীর্তন করবেন, হৃদয়কে শুদ্ধ করার প্রক্রিয়া তত খুব ভালভাবে চলবে। চেত-দর্পন-মার্জনম (চৈ.চ.অন্ত ২০.১২)। এটা অনুমোদিত। চেত দর্পন...এই প্রথম, কারণ আমাদের আধ্যাত্মিক জীবন চেত-দর্পন-মার্জনম ছাড়া শুরু হয় না, যতক্ষন হৃদয়ের আয়না বিশুদ্ধ না হয়। কিন্তু এটি সবচেয়ে সহজ প্রক্রিয়া। যদি আপনি বিস্ময়ের সাথে হরে কৃষ্ণ মহা মন্ত্র কীর্তন করে চলেন, তবে প্রথম উপকার হবে যে আপনার হৃদয় বিশুদ্ধ হয়ে যাবে। তারপর আপনি দেখতে পারেন আপনার অবস্থান কি , আপনি কি, আপনার কাজ কি। যদি আপনার হৃদয় অশুদ্ধ হয়, তাহলে ... তাই এই অশুদ্ধ হৃদয় এই প্রক্রিয়ার দ্বারা শুদ্ধ করা যাবে না, প্রায়চিত্ত দ্বারা। এটি সম্ভব নয়। তাই ... পরীক্ষিত মহারাজা খুব বুদ্ধিমান ছিলেন। তিনি বলেছেন, প্রায়শ্চিত্তম অথো অপর্থম। আপ, আপ মানে "নেতিবাচক" এবং অর্থ মানে "অর্থ।" "এটা কোন অর্থ নেই।" তিনি অবিলম্বে প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রায়চিত্তম অপার্থম। "কি লাভ হবে? তিনি অশুচি থাকবেন। তিনি হৃদয়কে পরিষ্কার করেন না।" হৃদয়ের অন্তঃস্থল।" হৃদয়ের অন্তঃস্থলে, সমস্ত নোংরা জিনিসগুলি; "কিভাবে আমি ঠকাতে পারি, কিভাবে কালো বাজার করব, কিভাবে আমি ইন্দ্রিয় উপভোগ করতে পারি, আমি কিভাবে বেশ্যার কাছে যাব এবং পান করব?" এই জিনিসগুলিতে ভরা। শুধুমাত্র মন্দির বা গির্জারে যাও এবং কিছু প্রায়চিত্ত কর, এটা করে কোন লাভ হবে না। আমাদের এই পদ্ধতি গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে, সংকীর্তনম। চেত-দর্পন-মার্জনম ভব মহা-দাবাগ্নি-নির্বাপনম (চৈ.চ.অন্ত ২০.১২) প্রথম কিস্তি হল যে আপনি আপনার হৃদয় শুদ্ধ করুন। পরবর্তী কিস্তি হল ভব মহা-দাবাগ্নি-নির্বাপনম। যদি আপনার হৃদয় বিশুদ্ধ হয়, তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন এই জগতে আপনার অবস্থান কি। এবং একটি নোংরা হৃদয় দিয়ে, আপনি বুঝতে পারবেন না। যদি আপনার হৃদয় পরিষ্কার হয় তাহলে, আপনি বুঝতে পারবেন যে "আমি এই শরীর না।" আমি আত্মা। তাই আমি সত্যি নিজের জন্য কি করছি? আমি আত্মা। আমি এই শরীর নই। আমি এই শরীরের উপর সাবান লাগাচ্ছি, কিন্তু আমি যেমন, আমি ক্ষুধায় মারা যাচ্ছি । "এইরকম চলছে। কারণ এটা বস্তুগত সভ্যতা, তারা শরীরের যত্ন নেয় এবং শরীরের ভিতরের আত্মা সম্পর্কে কোন তথ্য নেই। এটি শারীরিক সভ্যতা এবং আমাদের কৃষ্ণ ভাবনামৃত আন্দোলন হচ্ছে, শরীরের উপর বেশি মনোযোগ না দেওয়া , তবে আত্মার প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া। এইটা কৃষ্ণভাবনামৃত, ঠিক বিপরীত। তাই তারা এই আন্দোলনকে বুঝতে পারে না। এটি একটি সম্পূর্ণ আধ্যাত্মিক আন্দোলন। এটি জড় আন্দোলন নয়। অতএব, তারা কখনও কখনও ভুল বোঝে, "আপনাদের লোক স্বাস্থ্যে দুর্বল।" তারা এই এবং ওই হয়ে উঠছে। তারা মাংস খায় না, তাই প্রাণশক্তি কম।" তারপর "আমরা জীবনের শক্তি সম্পর্কে উদ্বিগ্ন না, আমরা আধ্যাত্মিক জীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন।" সুতরাং তারা কখনও কখনও ভুল বুঝে। সুতরাং যাইহোক মানুষ বোঝে বা না বোঝে - এটি কোন ব্যাপার না। আপনারা কীর্তনের সাথে যুক্ত থাকুন এবং এটি নিশ্চিত যে আর শারীরিক জীবন থাকবে না। অনেক ধন্যবাদ।