BN/Prabhupada 0805 - কৃষ্ণভাবনামৃতে শিক্ষা দেয়া হয় বন্ধন কি আর মুক্তি কি



Lecture on SB 5.5.2 -- London, September 17, 1969

প্রভুপাদঃমহাত্মানঃ তে...

মহাত্মানস্তে ...সমচিত্তাঃ প্রশান্তা
বিমন্যবঃ সুহৃদং সাধোবো যে
(শ্রীমদ্ভাগবত ৫.৫.২)।

গত ক্লাসে আমরা মুক্তি লাভের উপায় নিয়ে আলোচনা করছিলাম। দুটো পথ রয়েছে। একটি পথ মোক্ষ লাভের। মোক্ষ মানে এই জড় বন্ধন থেকে মুক্তি লাভ করা। মানুষ জড় বন্ধন কি সেটাই বোঝে না, কিন্তু যারা কৃষ্ণভাবনামৃতে রয়েছে, তারা বন্ধন কি, আর মুক্তি কি এই বিষয়ে প্রশিক্ষিত হচ্ছে।

চিন্ময় আত্মা পরমেশ্বর ভগবানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়ার ফলে, স্বাভাবিকভাবেই সে খুব শক্তিশালী। আমরা জানি না আমাদের কি পরিমাণ চিন্ময় শক্তি রয়েছে, কিন্তু এটি জড় আবরণ দ্বারা চাপা পড়ে আছে। ঠিক যেমন এই আগুন। আগুনে যদি খুব বেশী ছাই থাকে, আগুনের তাপটি যথাযথভাবে অনুভব করা যাবে না। কিন্তু তুমি এই ছাইগুলোকে সরিয়ে নাও আর শুধু বাতাস দাও, যখন এটি জ্বলে উঠবে, তখন তুমি এর সম্পূর্ণ তাপ অনুভব করতে পারবে এবং বিভিন্ন উদ্দেশ্যে এটিকে ব্যবহার করতে পারবে। একইভাবে, আমরা, চিন্ময় আত্মা, আমাদের অপরিমেয় শক্তি রয়েছে। আর ভগবান হচ্ছেন পরম চিন্ময় আত্মা, তাই ভগবানের যে কি পরিমাণ শক্তি রয়েছে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারব না। কিন্তু এমনকি আমরা, যারা হচ্ছি অতি ক্ষুদ্র কণিকা মাত্র... ঠিক যেমন... ঠিক আগুন আর আগুনের স্ফুলিঙ্গের সাথে তুলনা করা যায়। আগুন আর আগুনের স্ফুলিঙ্গ, তারা উভয়েই আগুন। এমনকি স্ফুলিঙ্গ, যেখানেই স্ফুলিঙ্গ পতিত হয়, তৎক্ষণাৎ সেটি জ্বলে যায়। একইভাবে, আমাদের মধ্যেও ভগবানের সমস্ত গুণ খুব ক্ষুদ্র পরিমাণে রয়েছে। ভগবানের সৃজনী শক্তি রয়েছে; তাই আমরাও বিভিন্ন জিনিস সৃষ্টি করছি। বিজ্ঞানীরা অনেক চমৎকার জিনিস তৈরি করছে। এটি আমাদের মতো মানুষদের জন্য চমৎকার, কারণ আমরা জানিনা যে কতো চমৎকারভাবে একজন কাজ করতে পারে। সেটা আমরা জানি না।