BN/Prabhupada 1062 - আমাদের জড়া প্রকৃতির উপর কর্তৃত্ব খাটানোর প্রবণতা আছে

From Vanipedia
Jump to: navigation, search
Go-previous.png Previous Page - Video 1061
Next Page - Video 1063 Go-next.png

আমাদের জড়া প্রকৃতির উপর কর্তৃত্ব খাটানোর প্রবণতা আছে - Prabhupāda 1062


660219-20 - Lecture BG Introduction - New York

তাই আমরা আমাদের ভুলটা করি। যখন বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে আমরা বিস্ময়কর কিছু ঘটতে দেখি, আমাদের জানা উচিত, এই বিস্ময়কর প্রকাশ বা সৃষ্টির পিছনে একজন নিয়ন্তা আছেন। নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কোন কিছুরই প্রকাশ বা সৃষ্টি হয় না। ইহা শিশুসুলভ, নিয়ন্ত্রক সম্পর্কে বিবেচনা না করা। একটি খুব সুন্দর দ্রুত গতির মোটর গাড়ী মত, খুব সুন্দর প্রকৌশল বিন্যাস আছে, রাস্তায় সুন্দরভাবে চলছে। শিশু ভাবে যে, "এই মোটর গাড়ীটা কিভাবে চলছে, ঘোড়ার সাহায্য বা কোন চালক ছাড়াই?” কিন্তু স্থিতপ্রজ্ঞ ব্যক্তি বা বুদ্ধিমান মানুষ বা এ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তি , জানেন যে, মোটর গাড়ীর সব ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও, ড্রাইভার ছাড়া এটা চলতে পারে না। সেই মোটর গাড়িটির উন্নত প্রকৌশল ব্যবস্থা বা বৈদ্যুতিক শক্তিঘর আছে। বর্তমান এই যান্ত্রিক যুগে, আমাদের জানা দরকার যে যান্ত্রিক সফলতার পিছনে, যন্ত্রপাতির বিস্ময়কর কাজের পিছনে একজন চালক আছেন । সূতরাং, পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণই হচ্ছেন এই বিশ্বব্রহ্মান্ডের চালক, তিনিই অধ্যক্ষ। তিনিই পরমেশ্বর যার নির্দেশে সবকিছু চলছে। এখন এই জীব সকলকে ভগবান কর্তৃক এই ভগবদ্গীতা প্রদত্ত হয়েছে। যা আমরা পরবর্তী অধ্যয়ে দেখতে পাব যে, জীবসকল হচ্ছে পরমেশ্বর ভগবানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। “মমৈবাংশো জীবলোক জীবভূতঃ”(ভ. গী. ১৫/৭)। অংশ অর্থ হল “অবিচ্ছেদ্য”। স্বর্ণের অংশ কণাও যেমন সোনা, সাগরের এক ফোঁটা জলও যেমন লবণাক্ত; তেমনি আমরা জীবাত্মা হচ্ছি পরম নিয়ন্তা, পরমেশ্বর ভগবানের অথবা শ্রীকৃষ্ণের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের আছে, আমি বলতে চাচ্ছি, অতি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মাত্রায় পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের গুণাবলী কেননা আমরা পরমেশ্বর ভগবানের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ।অবশ্য আমরাও কোন কিছূ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি। আমরা জড়া প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করছি। যেমন বর্তমানে আপনারা মহাশূন্যের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্ঠা করছেন। আপনারা অন্তরিক্ষ অথবা অন্যান্য গ্রহ নিয়ন্ত্রিত করবার চেষ্টা করছেন। এই প্রচেষ্টা স্বাভাবিক, কারণ কর্তৃত্ব করার এই গুণ শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে বিদ্যমান। কারণ আংশিক মাত্রায় আমাদের কর্তৃত্বাভিমান রয়েছে। আমাদের বোঝা উচিত যে, আমাদের এই প্রবণতা পর্যাপ্ত নয়। প্রকৃতির উপর কর্তৃত্ব করার বাসনা আমাদের মনে থাকলেও আমাদের বোঝা উচিত যে আমরা পরম নিয়ন্তা নই। ভগবদ্গীতাতে এর বিশদ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

জড়া প্রকৃতি কি? তাকে ও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ভগবদ্গীতায়, প্রকৃতি, জড়া প্রকৃুতির ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, তা নিকৃষ্টা, নিকৃষ্টা প্রকৃতি। নিকৃষ্টা প্রকৃতি, এবং জীবকে বলা হয়েছে উৎকৃষ্টা প্রকৃতি। উৎকৃষ্ট হোক বা নিকৃষ্টিই হোক, প্রকৃতি সব সময় নিযন্ত্রণাধীন। যা অধীন.. প্রকৃতি, প্রকৃতির প্রকৃত অর্থ নারী বা স্ত্রী যেমন স্ত্রী কর্মকান্ড স্বামীর দ্বারা পরিচালিত হয়, তেমনই, প্রকৃতিও অধঃস্তন, নিয়ন্ত্রিত। পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন নিয়ন্ত্রক , এবং এই প্রকৃতি, জীব ও জড়া প্রকৃতি উভয়কে, পরমেশ্বর পরিচালিত করেন। গীতাতে বলা হয়েছে, জীব যদিও ভগবানের অপরিহার্য অংশ, তবুও তাকে প্রকৃতি বলে স্বীকার করতে হবে। ভগবদ্গীতার সপ্তম অধ্যায়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। “অপরেযমিতস্ত্বন্যাং প্রকৃতিং বিদ্ধি মে পরাম্”(ভ. গী. ৭/৫)। এই জড়া প্রকৃতি ”অপরা ইয়ম্”। ইতঃ তু, এবং এই নিম্ন প্রকৃতির অতীত আর একটি প্রকৃতি আছে। এবং সেই প্রকৃতি কি? জীব-ভূত, এইগুলি....

জড়া প্রকৃতি গঠিত হয়েছে তিন গুনের সমন্বয়ে: সত্ত্ব, রজ ও তম গুণ। এই গুণত্রয়ের(সত্ত্ব, রজ ও তম) উর্দ্ধে আছে, অনন্ত কাল, অনন্ত কাল। এবং প্রকৃতির এই গুণগুলির মিশ্রন অনন্ত কালের প্রভাবে ও পরিচালনায় সমন্বয় ঘটে। কর্ম প্রক্রিয়া ঘটে চলেছে। কর্ম প্রক্রিয়া ঘটে চলেছে, যাকে কর্ম বলা হয়। এই কর্ম প্রক্রিয়া অনন্ত কাল ধরে ঘটে চলেছে। এবং আমরা আমাদের কর্মের ফল স্বরূপ সুখ বা দুঃখ ভোগ করি।